Thursday, 18 February 2016

আবিরের গল্প

চেয়ারে বসে গল্প লিখছিলো আবির, নিজের জিবনের গল্প, গল্পে যতখানি না নিজের জীবনকে নিয়ে লিখেছে সে, তার চেয়ে বেশী তার জীবনের থেকে বেশী প্রিয় ফারিহা'কে নিয়ে লিখেছে সে!!
.
ফারিহা'কে ছাড়া আবিরের জীবনের গল্প লেখা অসম্ভব, তাকে বাদ দিয়ে নিজেকে নিয়ে লেখার মত কিছু নেইও আবিরের জীবনে!!
.
তার অস্তিত্বের সবটা জুড়ে শুধু তার বিচরন!!
.
কিন্তু, গত কিছুদিন থেকে ফারিহার সাথে কথা বলে না আবির,
.
আজও তেমনি সারাদিন কোন কথা হয়নি তার সাথে। অভিমানী আবির ফোনটা বন্ধ করে রেখেছে!
.
আবিরের বাবা রুমে ঢুকে আবিরের কাছে এসে বলল,
- আবির বাবা, তোর ফোন এসেছে । নে কথা বল ।
- কে বাবা?
- ফারিহা নামের একটা মেয়ে, মনে হলো খুব ভদ্র, নে কথা বল!!
- ও দাও । আবির মোবাইলটা হাতে নিয়ে কানে দিল ।
ওর বাবা চলে যেতে যেতে, আবির শোন "আমি রাজি!" আবির খানিকটা চমকে উঠে,
-হ্যালো, ফারিহা বলো?
: এই ছেলে হয়েছে কি তোমার?? কি পেয়েছো কি তুমি?? আমার বাড়িতেও আমি রাজি করাবো, তোমার বাবা'কেও আমারই বুঝাতে হবে?? আমরা প্রেম করছি?? লজ্জা করে না তোমার?? প্রেম করতে পারো, কিন্তু মুখ ফুটে বাবা'কে বলতে পারো না??
- আর বলতে হবে না, বাবা কি বল্ল শুনলে না??
: উহু কি বল্ল শুনি নাই, তুমি বলো!!
- এখন তো সবাই রাজি, চলো ফারিহা আমরা বিয়ে করে ফেলি?
: উহু, করবো না, সবাই রাজি হলো তো কি হয়েছে আমি তো রাজি না, আমাকে যদি রাজি করাতে পারো তাহলে, বিয়ে করতে পারি!!
- দরকার নেই তোমার রাজি হওয়া, রাজি না করিয়েই বিয়ে করবো!!
: ঈশ!! অতখানি সাহস আছে তোমার??
- না নেই, কিন্তু বিশ্বাস আছে ভরষা আছে, মুখে যতই তুমি বাহানা করো, মন জুড়ে যে শুধু একটাই প্রার্থনা, সেটাও আমি বুঝি!!
: তুমি, কচু বুঝো?? বলেই, ফোন কেটে দিলো ফারিহা...
.
by-Joy Raj Khan

অন্যরকম ভালবাসা

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ গল্প
অন্যরকম ভালবাসা
লেখাঃ-হাসান মোহাম্মদ মেহেদী
===================
ফেসবুকে আমার কোন ছবি নেই । খুব সাধারন একজন আমি, কোন একটা পেইজের এডমিন । আর সেখান থেকেই সিনথিয়ার সাথে পরিচয় । অল্প দিনেই খুব ভালো ফ্রেন্ডশীপ হয়ে গেল সিনথিয়ার সাথে আমার । রাতভর মেসেজিং ফোনে কথা বলেই দিন কাটতো । ২৪ ঘন্টায় ২০ ঘন্টা সময় ব্যায় করতে হয় ওর সাথে । কিন্তু আমি ওর শুধুই বন্ধু এর বাইরে কিছু না।
.
সেদিন সীমার সাথে কমেন্টে অনেক্ষন ফান করেছিলাম বলে আমার সাথে ঠিকমতো কথা বলেনি ।
.
তবে এতে আমার কিছু যায় আসে না । আমি জানি ও এরকমই, আমার কিছু না আসলেও ও ওর মতই থাকবে, একদিন দুইদিন হয়তো মুখ ফুলিয়ে থাকবে বা কথা বলবে না কিন্তু তার পরদিন আবার ঠিক হয়ে যাবে ।
আমি যখন কিছুটা ১৮+ জোকস পড়ে মজা পেয়ে লাইক দেই তখন রেগেমেগে বলে, তুই খুব খারাপ।
-আমি খারাপ তাতে তোর কি? আমাকে খারাপ বলার তুই কে?
-না মনে হলো খারাপ তাই বললাম ।
-মনে হলে তা ধরে বসে থাক, আমি কেমন তা আমি ভালো করেই জানি ।
-তুই অনেক ভাবওয়ালা মানুষ, যাহ আর বলবো না । স্যরি…
-হুম মাথায় থাকে যেন।
.
আমার মুখে এরকম কথা শোনার পর নিশ্চই অন্য কেউ আগের মত কন্টাক করবে না। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে এই মেয়ে আবার ঘন্টাখানেক পরে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করবে যে আমি রাতে খেয়েছি কি-না? হাঃ হাঃ হাঃ আমি জানি এরকম মেয়েদের কি করে সামলাতে হয় ।
.
সেদিন মন টা খুব একটা ভালো ছিলো না আমার।
-কি হয়েছে তোর?
-কই কিছু না তো।
-লুকাচ্ছিস আমার কাছে?
-তোর কাছে লুকানোর কি আছে? আর তোর কাছে লুকালেই কি আর না লুকালেই বা কি?
-এরকম বলতে পারলি?
-আমি এরকমই বলি, ভালো লাগলে লাগলো, না লাগলে নাই।
আমার মনে আছে সেদিন ও খুব কষ্ট পেয়েছিল মেয়েটা ফোনেই কেঁদে ফেলে লাইন কেটে দিয়েছে।
.
আমি কিছু মনে করিনি, আমার কোন ইমোশন নেই এতে। কারণ আমি জানি ও ঠিক হয়ে যাবে, আবার ফোন করবে আবার আগের মত খবর নেবে আমার ।
হ্যা নিয়েছিল ও। আমি জানতাম আমি যত কষ্ট দেই না কেন ও একটু সুখের খোজে আমার কাছে ফিরে আসবেই। আর ও ফিরে এলেই আমি আবার কষ্ট দেবো হাঃ হাঃ হাঃ। ও আমার বন্ধু কিন্তু আমার জন্য ও কষ্ট পেলে কেন যেন মনে খুব ভালোলাগা কাজ করে । শুনেছি আপন মানুষের থেকেই নাকি মানুষ কষ্ট পায় । কিন্তু আমি তো ওর আপন কেউ না তবে কেন কষ্ট পায়? আর কেনই বা আমি ওর কষ্ট দেখে খুব আনন্দ পাই?...
.
…ইদানিং আমার স্মার্টফোন কেনা নিয়ে ওর মাথায় পোকা ঢুকেছে । প্রায় মাস খানেক ধরে কেবল আমার স্মার্টফোন কেনার কথা বলে বলে কান পঁচিয়ে ফেলেছে ।
গতকালও ঘ্যাঁনঘ্যাঁন শুরু করেছিল, তুই স্মার্টফোন কিনবি কবে?
-আমার যখন সময় সুযোগ হবে তখন কিনবো।
-কখন সময় হবে?
-আমি কি করে বলবো? আচ্ছা তুই ইদানিং আমার ফোন নিয়ে ফেছন লাগছিস কেন?
-তোর সমার্টফোন হলে একসাথে ভাইভারে ভিডিও কল করে কথা বলতে পারেতাম।
-আমার সাথে ভিডিওকল করার কি দরকার?
-না এমনিতেই। কবে ফোন কিনছিস?
-আরে আজব তো, আমার যখন সময় হবে তখন কিনবো, তোর মাথা ব্যাথা দরকার নেই।
-আচ্ছা সবসময় তুই আমার সাথে এরকম করিস কেন?
-কারণ আমি এমনই।
-আচ্ছা ঠিক আছে । আমি আর কখনো তোকে ফোন নিয়ে কোন কথা বলবো না।
-হ্যা এটাই, আমার ফোন নিয়ে কখনো তোর মাথা ব্যাথা করার দরকার নেই তোর।
.
আমি জানি আমি ওর সাথে যতই ভাব দেখাই না কেন এতে ওর কিছু আসে যায় না। আমি জানি ও কি চায়, আমি জানি ও আমাকে দেখার জন্য পাগলের মতো হয়ে আছে। তবু আমি ওর সামনে ধরা দেবো না।
শুনেছি নিজেকে যতদিন লুকিয়ে রাখা যায় ততদিন সবার কাছে খুব মূল্য পাওয়া যায় । নিজেকে আকর্ষণীয় হিসেবে ধরে রাখতে এটা না-কি সবচেয়ে বড় কৌশল ।
আমি এরকমই, আমি চাই ও এরকম প্রতিদিন প্রতিবার, বারবার কিছু কিছু কষ্ট পাক, আমার সাড়া না পেয়ে অভিমানে গাল ফুলিয়ে কান্না করে আবার বারবার আমার কাছে ছুটে আসার চেষ্ট করুক । ও আমাকে ভালবেসে কষ্ট পায়, প্রচন্ড কষ্ট পায় এটা ভাবলে মনে এক অতৃপ্ত ভালোলাগা কাজ করে ।
.
কোন এক সময় ও আমাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতে থাকবে আর কাঁদতে থাকবে আর আমিও সেদিন একদম ওর সামনে গিয়ে দাড়িয়ে ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে ফুলা গাল দুটো টেনে দিয়ে বলবো, নে পাগলি এবার কত দেখবি দেখ ।
ও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে কিছুক্ষন… তারপর জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকবে আর কাঁদতে কাঁদতে বুকে মাথা দিয়ে বলবে, তুই এমন কেন?
-আামি এমনই… হাঃ হাঃ হাঃ
-এতদিন দূরে দূরে ছিলি কেন?
আমি ওর মাথা বুকে চেপে ধরে বলবো, তোর পাগলামি খুব ভালবাসি রে তাই তো আসিনি ।
আমি জানি সেদিন ওর চোখের পানিতে আজকের দেয়া দুঃখগুলো সব ধুয়ে মুছে চলে যাবে,
আমি জানি সেদিন ও এতটাই সুখে থাকবে যে আমার দেয়া এই বিন্দু বিন্দু কষ্টগুলো নিমিষেই সুখের মাঝে ডুবে যাবে।।।
হ্যা আমি ওকে ভালবাসি, খুব ভালবাসি আর এটাই আমার ভালবাসার রূপ.. আমি এরকমই...